ঢাবির ‘নীল দলের’ ২৩১ শিক্ষকের বিচার চাইলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা

ঢাবির ‘নীল দলের’ ২৩১ শিক্ষকের বিচার চাইলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা
শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর ২৩১ জন শিক্ষকের বিচার দাবি করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকমণ্ডলী’ নামের একটি সংগঠন। তারা নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং সংগঠনের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, নীল দলের ওই শিক্ষকরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং গত ১৭ বছরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, আওয়ামী সরকারের আমলে ‘নীল দল’-এর সক্রিয় সদস্যরা ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও পুরনো এক ধারাবাহিকতার অংশ—এর আগে গত জুলাই মাসেই বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ও একইভাবে একদল শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ও ‘গণহত্যার হুকুমদাতার পৃষ্ঠপোষক’ আখ্যা দিয়ে শাস্তির দাবি তুলেছিল।

 

সাদা দলের ওই কর্মসূচিতে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার অবশ্য সতর্কতার সুরে বলেছিলেন, নিরপরাধ কোনো শিক্ষক যেন হয়রানির শিকার না হন, আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেবল তখনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে বাস্তবে অভিযোগগুলো কতটা যাচাই-বাছাই করে তৈরি হচ্ছে, নাকি সাংগঠনিক রাজনৈতিক বিভাজনের ভিত্তিতে তালিকা করা হচ্ছে—তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিতে সতর্ক অবস্থান লক্ষ করা গেছে। এর আগে সাদা দলের দাবির জবাবে ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেছিলেন, দাবিটি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

ভিন্নমত ও উদ্বেগ

শিক্ষক সমাজের একাংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে সহকর্মীদের গণহারে ‘বিচারযোগ্য’ ঘোষণা করার এই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন-মতপ্রকাশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের যুক্তি—দলীয় পরিচয় বা সংগঠনের সদস্যপদ থাকা মাত্রই কাউকে অপরাধী গণ্য করা এবং শত শত জনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে শাস্তির দাবি তোলা প্রমাণনির্ভর বিচারপ্রক্রিয়ার বদলে সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দিতে পারে বলে তারা মনে করছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ন্যায়বিচারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো এই সাম্প্রতিক স্মারকলিপির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্টতই বিপরীতমুখী, এবং প্রকৃত অভিযোগ ও প্রমাণ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ।

Visited 13 times, 1 visit(s) today