❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ ট্যানারির মেশিন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে সমাধানের আবেদন জানিয়েছে ট্যানারি মালিকরা। তবে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সময়মতো বিদেশে পণ্য সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বিভিন্ন ট্যানারিতে দেখা গেছে, পশম ছাড়ানো কাঁচা চামড়া পলিথিন দিয়ে ঢেকে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। গ্যাসের সংকটের কারণে সেগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। প্রায় সব ট্যানারিতেই একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অধিকাংশ সময় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। কোথাও কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতির পরিবর্তে সনাতন পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় নিয়মিত বেতন পাওয়া নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন শ্রমিকরা।
মালিকদের অভিযোগ, একাধিকবার শিল্প মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সংকট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরই মধ্যে কয়েকটি রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান।
এক ট্যানারি শ্রমিক জানান, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। ফলে অধিকাংশ সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং কারখানার উৎপাদন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিষ্ঠান যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, তেমনি শ্রমিকদের কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হচ্ছে।
ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, বর্তমান সংকট অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য বাজারে চলে যেতে পারেন। একবার ক্রেতা হারালে তাদের ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হবে।
তিনি বলেন, উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। তাই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান তিনি।
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তবে সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্যানারি শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
তাদের মতে, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সাবেক অডিটর আফজাল হোসাইন বলেন, জ্বালানির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগ, দেশীয় উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে।
তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
এদিকে খাতসংশ্লিষ্টরা সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
