❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী মৌলভী মশিয়ার রহমানের (৪৪) কারাগারে মৃত্যুকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার।
যুবলীগের এই কর্মী উপজেলার আমতলী বাজারে ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। নিজের দোকানে প্রায়ই তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলায় তাকে কোন মামলা ছাড়াই আটক করা হয় বলে দাবি করে পরিবার।
তাদের ভাষ্য, তিনি যুবলীগের কর্মী হলেও দলীয় কোন পদ-পদবীতে ছিলেন না।
আটকের পরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্যাতন ও বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। যদিও সরকারি মেডিকেল প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯শে ডিসেম্বর মশিয়ার রহমানকে কাউনিয়া থানা-পুলিশ আটক করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর আওতায়। পরে তাঁকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতন ও যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের ছোটো ছেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবার নামে কোনো মামলা ছিল না। আমতলী বাজারে তাঁর ছোট একটি ফলের দোকান ছিল। বাবা বাজারে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলায় কিছু লোক ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ কোনো মামলা ছাড়াই তাঁকে আটক করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আটকের কয়েক দিনের মধ্যেই বাবার জামিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, তিনি মারা গেছেন। বাবার শরীরে হাতে, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক উল্লেখ করা হয়েছে।’
বাবার মৃত্যুর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বড় ভাই বাবার ছোট ফলের দোকানটি চালায়, আর আমি বিভিন্ন কাজ করে সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছি। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
মশিয়ার রহমানের বাবা আব্দুল মান্নান ও মা ওলিমা বেগম। তিনি স্ত্রী মোছা. আরজিনা বেগম, দুই ছেলে—গোলাম রাব্বী ও রাজিব এবং এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
মশিয়ার রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
উল্লেখ্য, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’–এর আওতায় একইদিনে কুর্শা ও শহীদবাগ ইউনিয়নের দুটি পৃথক ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত মশিয়ার রহমান ছাড়াও অপরজন হলেন- শহীদবাগ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী হরিচরণ বর্মন (৬০)।
হরিচরণ বল্লব বিশু গুলশান মোড় এলাকার মৃত দেবেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের পুত্র এবং দীর্ঘদিন ধরে শহীদবাগ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
