বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা, ৪ আগস্ট: চীনের প্রভাব কমাতে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশে তাদের পরবর্তী যৌথ নৌ-মহড়া “ক্যারাট” (Cooperation Afloat Readiness and Training – CARAT) অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকার সূত্র জানায়, মার্কিন নৌবাহিনী এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণে এই গুরুত্বপূর্ণ মহড়াটি বঙ্গোপসাগরে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর এই ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, এর কিছুদিন আগেই সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে গত ১৯ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ জঙ্গল যুদ্ধ মহড়া “টাইগার লাইটনিং ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আসাম সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ওই দুই সপ্তাহব্যাপী মহড়ায় অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড, মার্কিন সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ড এবং ওরেগন আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা।
মার্কিন সামরিক চুক্তির অগ্রগতি
মঙ্গলবারের বৈঠকে অ্যাডমিরাল কোহলার ও প্রধানমন্ত্রী রহমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত “জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট” (GSOMIA) স্বাক্ষর সংক্রান্ত অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের মধ্যে গোপনীয় সামরিক তথ্য নিরাপদে আদান-প্রদান ও সংরক্ষণের একটি আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার আগে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান ও এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি লকহিড নির্মিত টিপিওয়াই-৪ স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং নাসামস আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও রয়েছে এই তালিকায়। এছাড়া বাংলাদেশ এমকিউ-৯ রিপারের মতো ড্রোন কেনার বিষয়েও বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই চীন থেকে আমদানি করা হয়।
