নেপালের ভয়াবহ বন্যায় শেখ হাসিনার শোক, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় শেখ হাসিনার শোক, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক


নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় হতাহত ও নিখোঁজদের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে মানবিক লজিস্টিকস পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭শে আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় বিপুলসংখ্যক পরিবার ও জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।

তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও রসুয়াগাধি এলাকার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে, অনেকে এখনো নিখোঁজ এবং অসংখ্য পরিবার অনিশ্চয়তা ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে।

নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শেখ হাসিনা নিহতদের আত্মার শান্তি, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন।

বিবৃতিতে তিনি নেপালকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্য, ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের মানুষের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

২০১৮ সালে চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে কাঠমান্ডু সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় তিনি নেপালের মানুষের উষ্ণতা, মর্যাদা ও দৃঢ়তা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ওই সফরের স্মৃতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কষ্ট বাংলাদেশ বোঝে। অতীতেও বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে নেপাল ও অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।

নেপালের বর্তমান সংকটেও বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের বাস্তব সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নেপাল সরকার অনুরোধ করলে উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ত্রাণ কার্যক্রম ও জরুরি সহায়তার জন্য মানবিক লজিস্টিকস পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন, নাজুক পাহাড়ি প্রতিবেশব্যবস্থা, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও চরম আবহাওয়ার মতো অভিন্ন হুমকির মুখোমুখি—বিবৃতিতে এ কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন, নদী ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময় এবং মানবিক সাড়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উদ্ধারকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, চিকিৎসক, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক এবং দুর্গত মানুষকে সহায়তায় কাজ করা সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

সবশেষে নেপালের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই শোক ও সংকট কাটিয়ে উঠতে নেপালের মানুষ শক্তি, ঐক্য ও সাহস খুঁজে পাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন পুনর্গঠিত হবে—এটাই তার প্রত্যাশা।

নেপালের রসুয়া জেলায় ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও রসুয়াগাধিসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু, বসতি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Visited 49 times, 1 visit(s) today