রোগ সারাতে এসে আরো অসুস্থ হওয়ার শংকায় রোগীরা: আনোয়ারায় লোডশেডিং ও তেলের অভাবে বেহাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রোগ সারাতে এসে আরো অসুস্থ হওয়ার শংকায় রোগীরা: আনোয়ারায় লোডশেডিং ও তেলের অভাবে বেহাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
শেয়ার করুন

আনোয়ারা প্রতিনিধি

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে আট মাসের শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ রোগীরা। তার ওপর টানা লোডশেডিং। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তেলের অভাবে চালু হয়নি জেনারেটর। অন্ধকার আর প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে হাতে স্যালাইনের ক্যানোলা নিয়েই হাসপাতালের সিঁড়ি কিংবা বারান্দায় ভিড় করছেন রোগীরা। গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সেবামুখী মানুষের চরম দুর্ভোগের এমন চিত্র দেখা গেছে।

​গরমে শিশু ওয়ার্ডে চাতক পাখির মতো হাঁসফাঁস

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিত্র সবচেয়ে করুণ। ৮ মাস থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুরা গরমের যন্ত্রণায় অনবরত ছটফট করছে। মায়েরা হাতপাখা ও কাগজ দিয়ে বাতাস করার কিংবা ভিজে কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তীব্র তাপপ্রবাহের কাছে তা ব্যর্থ হচ্ছে। অনেকে অসুস্থ শিশু নিয়ে হাসপাতালের ছাদে বা খোলা আঙিনায় হাঁটাহাঁটি করছেন।

​ডায়রিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে আসা জোসনা আক্তার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালে এসে গরম ও অন্ধকারের মুখোমুখি হতে হবে তা তিনি ভাবেননি। হাতে স্যালাইনের বোতল নিয়ে সিঁড়িতে বসে থাকা ডায়রিয়া রোগী হোসেন বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে বেডে টেকা যাচ্ছে না। একটু বাতাসের আসায় ক্যানুলা হাতে নিয়ে সিঁড়িতে বসে আছি।”

​দুই জেনারেটর, তবুও অন্ধকার, কারণ তেলের অভাব

অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সুবিধার্থে দুটি জেনারেটর থাকলেও তা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না জ্বালানি সংকটের কারণে। পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ বা তেলের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটর বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিদ্যুৎ গেলেই পুরো হাসপাতালজুড়ে নেমে আসে ঘুটঘুট অন্ধকার ও চরম তোপ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, “সরকারিভাবে জেনারেটরের তেলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আমরা নিজেদের উদ্যোগে কিছু তেলের সংস্থান করি। ফলে টানা লোডশেডিং হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়টুকুতে জেনারেটর চালানো হয়, বাকি সময় বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকে না।”

​রোগীর চাপ বৃদ্ধি ও বহুমাত্রিক সংকট

সম্প্রতি তীব্র গরমের কারণে এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশির প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এতে হাসপাতালে শয্যা ও রোগীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু বিদ্যুৎ ও গরমের সমস্যাই নয়; হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতির অভাব, চারপাশের নোংরা পরিবেশ, দুর্গন্ধ এবং কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার মতো নানা ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today