তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: রাস্তায় অচেতন পড়ে থাকা তরুণীর হাসপাতালে মৃত্যু

তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: রাস্তায় অচেতন পড়ে থাকা তরুণীর হাসপাতালে মৃত্যু
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠা তমা খাতুন মারা গেছেন। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তমা ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রাতে গোলাপনগর এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গোলাপনগর বাজারের একটি পার্লার থেকে সেজেগুজে নিজ বাড়ি ফকিরাবাদ বখশীপাড়ার দিকে ফিরছিলেন তমা। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন তার গতিরোধ করেন।

একপর্যায়ে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, ওই স্থানে ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল তমার ওপর নির্যাতন চালায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাত ১২টার দিকে বখশীপাড়ার কাছাকাছি একটি নির্জন মোড়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তমাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যায়।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত ১টার দিকে তমাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন তমার মা কাজলী খাতুন ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে তমার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তমাকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় আবু বক্করের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযোগের পর আবু বক্করকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রকিবুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

তমার মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ১৫ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তমাকে অপহরণ করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের পর তমাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে তমাকে অপহরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত শেষ হলে স্পষ্ট হবে।

একই সঙ্গে তার মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কথিত নির্যাতনের সম্পর্কও চিকিৎসা ও তদন্তসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।

তমার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Visited 22 times, 1 visit(s) today