আগস্ট ২৪’এ জাবির হোটেলে ২৪ জনের মৃত্যু: লুটপাটের সময় নিজেদের দেয়া আগুনেই নিহত; হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি তদন্তে

আগস্ট ২৪’এ জাবির হোটেলে ২৪ জনের মৃত্যু: লুটপাটের সময় নিজেদের দেয়া আগুনেই নিহত; হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি তদন্তে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ অক্টোবর ২০২৬


২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিডিডাইজেস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল ভিন্ন চিত্র

যশোরের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো সাত আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারির ২২ তারিখে প্রকাশিত সংবাদের লিংকঃ
যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে নিহত ১৯ জনের নাম উঠেছে জুলাই শহীদ’দের তালিকায়

অব্যাহতি চাওয়া সাতজন

অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে যাঁদের জন্য, তাঁরা হলেন মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও মো. ইমন কাজী (২৬)।

মামলার অভিযোগ

যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন পাঁচ তারকা মানের আবাসিক হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হোটেলে ঢোকে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রথমে ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা লুট করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টিভি, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরের মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। পরে গানপাউডার ও পেট্রোল দিয়ে প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান, যাঁদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডারও ছিলেন।

ঘটনার পর ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হোটেলে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও কাচের দরজার ডেকোরেশন পুড়ে গেছে। মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি।

 

বিডিডাইজেস্টের আগের অনুসন্ধান

২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি বিডিডাইজেস্ট “যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে নিহত ১৯ জনের নাম উঠেছে জুলাই শহীদ’দের তালিকায়” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তৈরি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিজয় মিছিল থেকে বিক্ষুব্ধ লোকজন হোটেলে হামলা ও লুটপাট চালায়। পরে আরেকটি দল নিচতলায় গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরায়। নিহতদের মধ্যে ১৯ জনের নাম জুলাই শহীদদের ৮৩৪ জনের তালিকায় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে নিহত ১৯ জনের নাম উঠেছে জুলাই শহীদ’দের তালিকায়

যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে নিহত ১৯ জনের নাম উঠেছে জুলাই শহীদ’দের তালিকায়

এ ঘটনায় ২৪ জনকে হত্যার অভিযোগে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার ১৫ দিন পর গতকাল সোমবার রাতে শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। যদিও মামলার ২০০ আসামীই অজ্ঞাত।

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই দাবিগুলো নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য নেই বলে জানা গেছে।

Visited 35 times, 1 visit(s) today