‘৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট’, শিক্ষার অধিকার না পাওয়ায় বৃত্তি প্রত্যাখ্যান জাবি শিক্ষার্থী শান্ত চন্দ্রের

‘৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট’, শিক্ষার অধিকার না পাওয়ায় বৃত্তি প্রত্যাখ্যান জাবি শিক্ষার্থী শান্ত চন্দ্রের
শেয়ার করুন

❐ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি বৃত্তি পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত চন্দ্র শীল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট করার অভিযোগ তুলে তিনি এ বৃত্তি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

শান্ত চন্দ্র শীল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থী। অনার্সের ফলাফলে তিনি ৩.৬৩ জিপিএ পেয়েছেন। ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হলেও প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি বৃত্তিটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানান।

বৃত্তি প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া এক বক্তব্যে শান্ত চন্দ্র শীল বলেন, ‘এই প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ৩০০-এর অধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট করেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মব সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষার আসন থেকে তার কয়েকজন সহপাঠী ও সিনিয়রকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শান্তের ভাষ্য, এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। কোনো এক শিক্ষার্থী তাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখেছে—এমন মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া তার কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর সনদ বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন শান্ত। তার ভাষায়, ‘এই প্রহসনের প্রশাসন তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎকে নরকে পরিণত করেছে।’

বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

শান্ত চন্দ্র শীলের অভিযোগ, শামীম মোল্লাকে শিক্ষার্থীরা মারধর করে হত্যা করলেও প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল হাসান অভিযুক্তদের ‘প্রটোকল’ দিয়ে চলাফেরা করতে দিচ্ছেন এবং তারা প্রশাসনের নিরাপত্তায় পড়াশোনা করছে।

বৃত্তি প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করে শান্ত বলেন, ‘৩০০-এর অধিক শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করার জন্য এই প্রশাসনকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আমাদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বহিষ্কার ও অন্যান্য শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাদের শিক্ষাজীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

জিপিএ ৩.৬৩ পেয়ে সরকারি বৃত্তির মতো একটি একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পরও তা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন দর্শন বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

Visited 24 times, 2 visit(s) today