নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও শিক্ষার অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগ নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার আহ্বানে জার্মান ছাত্রলীগের চার কর্মী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে জেনেভায় জাতিসংঘের সদরদপ্তরে গেছেন।
সেখানে তাঁরা জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (OHCHR) বাংলাদেশ ডেস্ক অফিসার থমাস হুনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন জান্নাতুন নাঈম, চৈতন্য সাহা, ইমতিয়াজ রাব্বি ও তানভীর হায়দার রোহান।

জান্নাতুন নাঈম ফেসবুক পোস্টে জানান, বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অধিকার লঙ্ঘন ও গণ-রাজনৈতিক নিপীড়ন নিয়ে আলোচনার জন্যই এই আহ্বান ছিল।
তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারছেন না, তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা লক্ষাধিক।
জার্মান ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, শিক্ষার অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফরিদা শহীদ তাঁর আসন্ন সরকারি সফরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের ওপর হওয়া অবিচারের প্রতি গুরুত্ব দেবেন।
১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রাচীনতম ছাত্র সংগঠন “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ড ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগস্টে সরকার পতনের পরে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ এর যুক্ত থাকা লক্ষাধিক ছাত্রের উপর নির্মম নির্যাতন ও বর্বরোচিত হামলা শুরু হয়।
মব হামলা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের বিনা বিচারে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন সারাদেশে ছাত্রলীগের সহস্রাধিক নেতা-কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে বহিষ্কার করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার জন্য ৭৩ জন ও এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ১১ জন, মোট ৮৪ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় ১৬ জনকে সনদ বাতিল, স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ স্থগিতসহ বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান হলো, শাস্তি দেওয়া হয়েছে জুলাই আন্দোলনে হামলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের নির্দিষ্ট অভিযোগে। যদিও প্রকৃতপক্ষে এই ব্যবস্থাগ্রহণ পুরোটাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে ইতিমধ্যে প্রমাণিত।
এই সকল বহিষ্কারাদেশ ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজনৈতিক মেরুকরণ ও মব সহিংসতার ভয়ে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারছে না।
