❐ জেলা প্রতিনিধি
বরিশাল নগরীর একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষককের হাত-পা বাঁধা ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর কাওনিয়া থানাধীন ভাটিখানা রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমেনা খানম বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। মেহেন্দিগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বরিশাল নগরীতে এসে একাই ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার একমাত্র ছেলে রিফাত ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ভাটিখানা এলাকার রিনা বেগমের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন আমেনা খানম। বুধবার রাতে তার কক্ষের পাশ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বাড়ির মালিক রিনা বেগমকে জানান।
বাড়ির মালিক তাৎক্ষণিক ঢাকায় অবস্থানরত আমেনা খানমের ছেলে রিফাতকে খবর দেন। পরবর্তীতে রিফাতের সহায়তায় কাওনিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে ভোররাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখে। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার পর খাটের ওপর আমেনা খানমের কাপড়ে হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ২-৩ দিন আগে তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে ঘাতকরা বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
বাড়ির মালিক রিনা বেগম জানান, “তিনি একাই থাকতেন এবং সাধারণত শান্তশিষ্ট জীবনযাপন করতেন। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পরই আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ ও তার ছেলেকে জানাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাবেক শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও সিআইডির বিশেষ টিম ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।”
ঘটনাস্থলে বাইরে থেকে তালা দেওয়া এবং হাত-পা বাঁধা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই নিশ্চিত করছে। একা থাকার সুযোগ নিয়ে চুরি বা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
