এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্টে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় সারির শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে পদক ছাড়াই খালি হাতে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় লিটন দাসের দল।
শনিবার জাপানের নিশিনের কো রোগি স্পোর্টস পার্কে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের শুরুতে স্পিনারদের দাপটে শ্রীলঙ্কাকে চরম চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারের মধ্যেই ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে লঙ্কানরা। মেহেদী হাসান নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরান সিনেথ জয়াবর্ধনে ও লাসিথ ক্রুসপুল্লেকে। নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেক উইকেটের স্বাদ পান রহস্য স্পিনাস আলিস আল ইসলাম, আর রানআউটে কাটা পড়েন সোহান ডি লিভেরা।
পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক সহান আরাচ্চিগে ও আশেন বান্দারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পর ১৪তম ওভারে বাংলাদেশের একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনা হলে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ওই ওভারে মোস্তাফিজ জোড়া নো বল ও একাধিক ওয়াইডসহ মোট ১১টি বল করেন এবং থারিন্ডু রত্ননায়েকে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ২৫ রান তুলে নেন। ১৪ থেকে ১৮তম ওভার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা তোলে ঝড়ো ৮৪ রান। রত্ননায়েকে মাত্র ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে খেলেন ৩২ বলে ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তার সঙ্গে আরাচ্চিগির জুটিতে আসে ৪৬ বলে ৯৩ রান। শেষ ৭ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ১০২ রান। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ জোড়া শিকার ধরলেও ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের শক্ত পুঁজি পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের মেহেদী ১৯ রানে ২টি ও আলিস ১৮ রানে ১টি উইকেট পান। তবে অতিরিক্ত খাত থেকেই বাংলাদেশ উপহার দেয় ২২ রান।
১৬৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান থুশারা ও থারিন্ডু রত্ননায়েকের তোপে দলীয় ৪ রানেই বিদায় নেন দলের প্রথম তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই এই তিনজন সাজঘরে ফেরেন, যার মধ্যে অধিনায়ক লিটন দাস শূন্য হাতে ফেরেন নিজের শেষ ৫ ইনিংসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো।
পরবর্তীতে পারভেজ হোসেন ইমন ও ইয়াসির আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৩১ রানের জুটি করেন। তবে বিজয়কান্ত বিয়াস্কান্ত টানা দুই বলে ইমন ও শেখ মেহেদীকে আউট করলে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ইয়াসির আলী ১৬ বলে ২১ ও রিশাদ হোসেন ৫ বলে ১০ রান করে বিদায় নেন। নবম ব্যাটার নাসুম আহমেদ ২৬ রান না করলে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ পার হওয়া নিয়েও সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কাকে ব্রোঞ্জ জেতানো থারিন্ডু রত্ননায়েকে ৬৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও নেন ২ উইকেট। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দল নেমে এমন বাজে পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় এক হতাশা।
