মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ এই বেনিন কারা?

মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ এই বেনিন কারা?
শেয়ার করুন

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আর সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের আগেই অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনে একই প্রশ্ন—বেনিন কারা?

বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে আফ্রিকার দেশ বেনিন। ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রীতি ম্যাচ হলেও, আবেগের দিক থেকে এটি অনেক বড় কিছু। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই মেসির শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

পুরো বিশ্বের নজর মেসির ওপর থাকলেও, এক অজানা প্রতিপক্ষকে নিয়ে কৌতূহল কম নয়। তাদের জাতীয় দলের ডাকনাম ‘দ্য চিতা’স’।

ঐতিহাসিক সুযোগ ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স
বেনিনের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। পশ্চিম আফ্রিকার এই দলটি ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চমৎকার পারফর্ম করেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস বাছাইপর্বেও তারা দারুণ সূচনা করেছে।

প্রথম দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দলটি। বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে ড্রয়ের পর মৌরিতানিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। শেষ ৬ ম্যাচে মাত্র একটিতে পরাজয় দেখায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকেই বুয়েনস আইরেসে পা রাখছে দলটি।

তবে তাদের সামনের চ্যালেঞ্জটা আকাশচুম্বী।
ফিফা র‍্যাংকিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান দুইয়ে, আর বেনিনের অবস্থান ৯৩তম—দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯১ ধাপের! কাগজে-কলমে ব্যবধানটা বিশালাকার, তাই একপেশে জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তারা।

স্বপ্ন ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র
তবুও স্বপ্ন দেখছে বেনিন।
সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণভাগের উন্নতি তাদের নতুন স্থায়িত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে জয় প্রমাণ করে, সুযোগ পেলেই গোল আদায় করতে পারে তারা। আর্জেন্টিনা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তরের আক্রমণের শক্তি রাখে তা তাদের জানা, কিন্তু ফুটবলে যে কোনো মুহূর্তে অলৌকিক কিছু ঘটে যেতে পারে—এই বিশ্বাসও তাদের রয়েছে।
সবকিছুর পাশাপাশি, মেসির সঙ্গে বেনিন দলের একটি দারুণ যোগসূত্র রয়েছে।

বেনিনের প্রধান কোচ গেরনোট রোর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। সেবার নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচেই মেসির একটি জার্সি সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন রোর, এই আশায় যে কোনো একদিন আর্জেন্টাইন জাদুকরের থেকে সেখানে একটি অটোগ্রাফ করিয়ে নেবেন।

মেসি সেটিতে আর স্বাক্ষর করতে পারেননি। বছরের পর বছর কেটে যাওয়ার পর, মনুমেন্তালের মাঠে আজ সেই অসম্পূর্ণ গল্প পূর্ণ করার আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন রোর।

আর্জেন্টিনার জন্য এই রাতটি সম্পূর্ণ মেসিকে ঘিরে। আর বেনিনের জন্য এটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে নিজেদের পরখ করে নেওয়া এবং চিরস্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ।

Visited 1 times, 1 visit(s) today