বিশেষ প্রতিবেদক। ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে টান পড়েছে। ফলে বাজারটিতে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকের অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ।
মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বরাবরই শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম; দেশটি এখনও নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থাকলেও আগস্ট শেষে সেই জায়গাটি পুনরায় দখলে নিয়েছে চীন। বুধবার (৭ অক্টোবর) ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ (৫.৩৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। অন্যদিকে একই সময়ে চীন ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ (৫.৬৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। তবে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও শুল্কজনিত কারণে চীনের রপ্তানিও ২০২৫ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে।
এর আগে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশ ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করে এগিয়ে থাকলেও আগস্টের সামগ্রিক হিসাবে চীন তা ছাড়িয়ে যায়।
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসে এই বাজার থেকে। ২০২২ সালে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৯৭৩ কোটি (৯.৭৩ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছায়। তবে ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে তা ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭২৯ কোটি ডলারে। ২০২৪ সালে রপ্তানি সামান্য বেড়ে হয় ৭৩৪ কোটি ডলার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ৮২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছিল।
অটেক্সার প্রতিবেদনে মার্কিন বাজারের সামগ্রিক মন্দার চিত্রও ফুটে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজার থেকে মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ (৪৯.০৭ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম আট মাসে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
মন্দার মধ্যেও প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছে ভিয়েতনাম। তবে সামগ্রিক চাহিদাহ্রাসের কারণে দেশটির রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ (১০.৯৭ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাণিজ্য চুক্তি করতে বাংলাদেশকে এক ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক শিল্পের প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু চুক্তির সুফল বাস্তবে মেলেনি বলে তাঁরা মনে করছেন। দীর্ঘ মেয়াদি মার্কিন এলএনজি, কৃষি ও পোল্ট্রি পণ্য ও ২৫টি বোয়িং বিমান সহ বাংলাদেশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্রয় চুক্তি করেছে। অথচ বাস্তবে পোশাক খাতের রপ্তানির ধ্বস ঠেকানো যায়নি।
তাঁদের মতে, শুল্কের হার, প্রতিযোগী দেশগুলোর সুবিধা এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয় বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।
