
বিশেষ প্রতিবেদক। ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের সনাতনী সম্প্রদায় ও সকল সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে অভয় দিয়ে বলেছেন,
“তোমরা একা নও, এই দেশ তোমাদেরও।”
একইসাথে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের মধ্যে বাস করছে। বার্তায় তিনি অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাকও দিয়েছেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটানো শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় হত্যা, মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, সম্পত্তি দখল, চাঁদাবাজি, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।
হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক আদর্শে বিশ্বাসী নাগরিকদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে এবং উসকানির মুখে সংযত থাকতে বলেছেন। তাঁর ভাষ্য,
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”
তিনি আবারও বলেছেন, বাংলাদেশের পরিচয় হওয়া উচিত ধর্মীয় সমতা, মানবিক মর্যাদা ও নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
হাসিনা সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি “সুসংগঠিত অভিযানের” সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। বার্তা অনুযায়ী, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, ব্যবসা, কৃষিজমি, গবাদিপশুসহ অন্যান্য সম্পদও নিশানা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাসিনার অভিযোগ, তারা সহিংসতার দায়ীদের জবাবদিহির বাইরে থাকতে দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, পরবর্তী রাজনৈতিক বন্দোবস্তেও রাজনৈতিক দমন ও ভয়ের সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও উপাসনালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হিন্দু গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্স তখন ৪৮ জেলার ২৭৮টি স্থানে হামলা ও হুমকির তথ্য দিয়েছিল। সরকারিভাবে হামলার সংখ্যা তখন প্রকাশ করা হয়নি। আওয়ামীলীগের শাসনামলেও, ২০২১ সালের দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় ইকবাল নামের এক মুসলমান ব্যাক্তি নাশকতার উদ্দেশ্যে পূজা মণ্ডপে কোরান শরিফ রেখে গিয়েছিলো, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল এর সূত্র ধরে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়, আর এ বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তাঁর শাসনামলেও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের দুর্গাপূজায় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় কয়েকজনের প্রাণহানি হয়, এবং হিন্দু ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ হয়।
