মামলা করেও নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ীরা: সমঝোতা না করলে ‘লাশ পড়ে থাকবে’—হত্যার হুমকি বাদীকে

মামলা করেও নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ীরা: সমঝোতা না করলে ‘লাশ পড়ে থাকবে’—হত্যার হুমকি বাদীকে
শেয়ার করুন
হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি;
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক। ২৪ অক্টোবর, ২০২৬।


রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আজ শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে তাঁর ‘লাশ পড়ে থাকবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শুধু মামলার বাদীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, রাজধানীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অপরাধের ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া নাগরিকের স্বাভাবিক অধিকার। কিন্তু এমন ঘটনায় মামলা করার পর বাদীকেই যদি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে অপরাধের বিচার চাওয়া এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অপরাধের শিকার ব্যক্তি যদি বিচার চাইতে গিয়ে আরও বড় বিপদের আশঙ্কায় পড়েন, তাহলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিনিয়োগ, পণ্য ও সম্পদের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রয়োজন কর্মীদের সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ। কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের পর মামলার বাদীকে সমঝোতার জন্য চাপ দেওয়া এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, অন্য ব্যবসায়ীরাও নিজেদের সম্পদ, কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে পারেন।

এ ধরনের ঘটনা অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির ধারণা তৈরি করছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। মামলা করার পরও যদি বাদীকে নিরাপত্তা দিতে না পারা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক ভুক্তভোগী হয়রানি কিংবা প্রতিশোধের ভয়ে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এতে অপরাধের প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যাওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো হত্যার হুমকির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা, বাদীর নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কোনো পক্ষের চাপ বা ভয়ভীতি যেন মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলার কার্যকারিতা শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার সুরক্ষিত রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মামলা করার পর বাদীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ তাই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনার চেয়েও বড় প্রশ্ন সামনে আনে—সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের জীবন, সম্পদ এবং ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার নিয়ে কতটা নিরাপদ?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ। অপরাধের বিচার চাইতে গিয়ে যেন কাউকে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হতে না হয়, আর কোনো ব্যবসায়ীকে যেন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অপরাধমূলক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে না হয়—এ নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করাই এখন জরুরি।

 

Visited 15 times, 13 visit(s) today