❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব যে সংস্থার, সেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরকীয়া এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে।
এসব অভিযোগের বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করার কারনে দুদকের পরকীয়ার ও যৌন হয়রানির সংখ্যাও বাড়ছে বলেন মনে করেন অনেকে কর্মকর্তা।
দুদক সচিবকে ঘিরে অভিযোগ
দুদক সচিব সাইদুর রহমান খানকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মেহেরুন নেসা মেহেরীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কথোপকথনের বেশকিছু স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে আলোচনায় আছেন দুদক সচিব।
পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের পারিবারিক জীবনে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে সচিব সাইদুর রহমান খানের স্ত্রী দুদুকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দিলেও সে বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সংস্থাটি।
সাবেক মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুজ্জামানের বিরুদ্ধেও এক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলো। এখনো দুদকের অনেক কক্ষেই যৌন হয়রানির উদাহরন হিসেবে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয় অনেক কর্মকর্তাদের মাঝে।
সে সময় সেই নারী কর্মকর্তা দুদকের এ বিষয়ে অভিযোগ দিলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি দুদক। অভিযোগ আছে শহীদুজ্জামান তার প্রভাব খাটিয়ে দুদুকে এ এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।
উপপরিচালকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা
২০১৫ সালে ২০শে অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় মামলা করেন তারই স্ত্রী। অভিযোগ ছিল বিভিন্ন মেয়েদের সাথে পরকীয়ার কারনে সালাউদ্দিন তার কলহ সৃষ্টি করেছিলেন।
এই কলহকার কারণে সালাউদ্দিন নিয়মিত তার স্ত্রীকে প্রহার করতেন। নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তার স্ত্রী এ নিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে আসে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
সাবেক পরিচালককে ঘিরে পারিবারিক অভিযোগ
দুদকের সাবেক পরিচালক খান মিজানের বিরুদ্ধেও পারিবারিক সম্পর্কসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নিজের বোনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে দুদককে জানিয়েছিলেন।
তবে তৎকালীন কমিশন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়ে খান মিজানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়া হলেও কিছুদিন পর হাতে নাতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হন তিনি।
বর্তমান মহাপরিচালককে ঘিরে অভিযোগ
দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী নাজনীন সুলতানা দুদকের উপপরিচালক শারিকা ইসলামের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও অফিসের ভেতরে তাঁদের আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনাও রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন তদন্তের কার্যক্রমই গ্রহণ করেনি দুদক।
এছাড়া দুদকে আরো অনেক পরকীয়া ও যৌন হয়রানির ঘটনা কর্মকর্তাদের মুখে মুখে থাকলেও সঠিক প্রমাণ ও অভিযোগের অভাবে বাইরে আসেনি।
তাই দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন দুদকের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
তারা মনে করেন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন উচিত তেমনি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদাও রক্ষা করা উচিৎ।




