বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমে ৬৯তম মিনিটে ম্যাচজয়ী একমাত্র গোলটি করে বাংলাদেশকে নিশ্চিত লজ্জা থেকে রক্ষা করেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
ঘরোয়া ফুটবলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফর্টিস এফসির এই ফরোয়ার্ড মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায় গোলটি করেন। শমিত শোমের হেডার ভুটানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ইব্রাহিমের সামনে পড়ে। সেখান থেকে অত্যন্ত কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি।
ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হওয়া সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত নিচু র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল বাংলাদেশ। ইব্রাহিমের এই গোল গ্যালারির প্রায় ১০ হাজার দর্শক ও দেশজুড়ে টেলিভিশন পর্দায় চোখ রাখা কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
তবে ইব্রাহিমকে মাঠে নামানোর সময় এবং নামার সঙ্গেই তাঁর গোল বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলির রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই সেন্টার-ব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম-আপের সময় চোট পান নির্ধারিত অধিনায়ক তপু বর্মণ। ফলে ডুলিকে তাঁর শুরুর একাদশ ও ট্যাকটিক্সে পরিবর্তন আনতে হয়। তারিক কাজী সেন্ট্রাল ডিফেন্সে সরে আসেন এবং কাজীম শাহ কিরমানী জায়গা পান মিডফিল্ডে। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ওঠে জামাল ভূঁইয়ার হাতে, তিনি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে শমিতের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। চোটের কারণে ফিফা এসিয়ান কাপে খেলতে না পারা বিশ্বনাথকে আক্রমণভাগে সম্পূর্ণ নতুন একটি ভূমিকায় দেখা যায়।
গোলপোস্টের নিচে আস্থা রাখা হয় মেহেদী হাসান শ্রাবণের ওপর। তাঁর সামনে রক্ষণভাগে ছিলেন তারিক, জিদান ইউসুফ, সাদ উদ্দিন ও জায়ান আহমেদ। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দুই উইং সামলান রাকিব হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
ম্যাচে বিশ্বনাথকে বেশ কয়েকটি আক্রমণে যুক্ত হতে দেখা গেলেও একজন দক্ষ স্ট্রাইকারের মতো ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি। ২৬তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলায় গোল করার সুযোগ পেলেও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৪০তম মিনিটে রাকিবের থ্রু বল ধরে দ্রুত বক্সে ঢুকলেও ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর শটটি গোলপোস্টে থাকেনি। এর এক মিনিট পর বাংলাদেশ গোলরক্ষক শ্রাবণকে উড়ে গিয়ে দারুণ এক সেভ করতে হয়। ৪৪তম মিনিটে জামালের ক্রসে সাদের নেওয়া হেডার পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাঁ উইঙে ফাহিমের জায়গায় ফাহামেদুল ইসলামকে নামিয়ে আক্রমণভাগে পরিবর্তনের চেষ্টা করেন ডুলি, কিন্তু গোলমুখ উন্মোচনে স্বাগতিকদের অপেক্ষা বাড়তেই থাকে।
অবশেষে ৬৫তম মিনিটে বিশ্বনাথকে তুলে নিয়ে ইব্রাহিমকে এবং জামালের জায়গায় সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামান ডুলি। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন ইব্রাহিম। শমিতের হেড থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত করেন দলের জয়।
৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে স্বাগতিক দল এখন ৮ নভেম্বরের ভুটান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে নজর রাখবে। এরপর ১১ নভেম্বর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এই দ্বীপরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
দিনের প্রথম ম্যাচে ছয় দলের এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী লড়াইটি ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ৩-২ গোলে হারায় পাকিস্তান। ৩২ মিনিটের মধ্যে ভারত ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলেও ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে পাকিস্তান ২ গোল শোধ করে রোমাঞ্চ ছড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
