প্রাণের ঢাকা এখন সহিংসতা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতার শহর

প্রাণের ঢাকা এখন সহিংসতা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতার শহর
শেয়ার করুন

ঢাকা, ২৫শে নভেম্বর- ঢাকা শহরের যানজট এখন আর শুধু সময় নষ্টের কারণ নয়, এটি শহরবাসীর মানসিক অস্বস্তির প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি, এ অস্বস্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে সহিংসতা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা শহরের সঙ্গতি ও শান্তিকে নষ্ট করছে, এবং নাগরিকদের জীবন হয়ে উঠছে উদ্বেগময়।

এখনকার দিনে, কোনো ঘটনা বা সংঘাতের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিনের ছোটখাটো বিষয়ও সংঘর্ষ এবং সহিংসতার জন্ম দিতে শুরু করেছে, যা কিছুক্ষণের মধ্যে বৃহত্তর পরিস্থিতিতে রূপ নিচ্ছে। রাজধানী ঢাকার নানা এলাকায় সংঘাত এবং সহিংসতা একটি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে উঠছে, কিন্তু এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও হিমশিম খাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে, যাত্রাবাড়ী এবং শনির আখড়ার মতো এলাকাগুলো কলেজের ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে, কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।

অক্টোবর মাসে ঢাকা কলেজ ও ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের এক জঘন্য ঘটনা ঘটেছিল। এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়, যার বেশিরভাগই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। যদিও শুরুতে দাবি করা হয়েছিল যে, ঢাকা কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কথাকাটাকাটির কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়, তবে ঘটনাটির পেছনে ছিল আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থীর হেনস্তার বিষয়। এই ঘটনায় আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে পাল্টা হামলা চালায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা, এমনকি সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যায়।

ঢাকা শহর ৫ আগস্টের পর থেকে যেন স্থায়ীভাবে অস্থির হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন আন্দোলন এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কখনো আনসার, কখনো রিকশাচালক, কখনো গার্মেন্ট শ্রমিক, আবার কখনো চাকরিতে ৩৫ বছর বয়সের মতো সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এসব ঘটনাগুলো কখনো ছোট আকারে, কখনো আবার বড় রূপে সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।

গত একদিন আগে, বুটেক্সের আজিজ হল ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ হলের শিক্ষার্থীরা এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার মাঝে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ও মালিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তবে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে তারা গণঅবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

এছাড়া, জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা সহিংসতায় রূপ নেয়।

ঢাকা শহরের পরিস্থিতি যেন প্রতিনিয়ত আরও অস্থির হয়ে উঠছে, এবং সেখানকার নাগরিকদের জন্য শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Visited 20 times, 1 visit(s) today