সংবাদ প্রতিবেদন
বগুড়া কারাগারে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একই কারাগারে থাকা চারজন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
আজ সোমবার ৯ই ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারান্তরীণ অবস্থায় মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন মিঠু (৬০) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বৈইঠা দক্ষিণ পাড়া এলাকার মোজাহার আলীর ছেলে এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
তিনি গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং দুর্গাহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬নং ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
পড়ুন: বগুড়া কারাগারে আটক তিন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, ‘অস্বাভাবিক’ দাবী আ’লীগের
জেলার সৈয়দ শাহ’র সাথে কথা বলে জানা যায়, জুলাই-আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় আব্দুল মতিন মিঠুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতের নির্দেশে ৩রা নভেম্বর বগুড়া জেলা কারাগারে আনা হয় তাকে। সোমবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ‘বুকে ব্যথা’ অনুভব করেন।
জেলার জানান. এরপর মিঠুর শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান জেলার।
এর আগে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহাদত আলম ঝুনু, বগুড়া পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন এবং শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ মারা যান।
এই নেতাদের মধ্যে আব্দুল লতিফ ১৫ই আগস্ট গ্রেপ্তার হন। ২৩শে নভেম্বর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।
পড়ুন: কারাবন্দী বগুড়া আওয়ামী লীগ নেতা রতনের আকস্মিক মৃত্যু
এভাবে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বাভাবিক কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলার সৈয়দ শাহ’র দাবি, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ছিল। মেন্টাল শক থেকে তারা হার্ট অ্যাটাক করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার মারা যান।
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাগুলোকে স্বাভাবিক বলে মানতে রাজি নন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চক্রান্ত থেকে কারাগারে পাঠিয়ে সেখানে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যার ফলে দলের জনপ্রিয় নেতারা এভাবে মারা যাচ্ছেন। এসব ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা।
